Monday, May 9, 2022

মিশরে ‘সন্ত্রাসী হামলা’য় ১১ সেনা নিহত, ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট সিসি

 মিশরের সিনাই উপদ্বীপের সুয়েজ খাল অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির ১১ সেনা নিহত হয়েছেন। আইএসের সন্ত্রাসী বাহিনীর সমর্থকরা সিনাইয়ে অনেক বছর ধরে মিশরের সামরিক বাহিনীকে টার্গেট করে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে গতকাল শনিবারের হামলাটি নিকট অতীতের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। একসাথে এত সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা বিরল। এ হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। এএফপি, নিউজ২৪।


সুয়েজ খালের পূর্ব তীরে সংঘটিত ওই হামলার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে অন্তত ৫ সেনা আহত হয়। মিশরীয় সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের সিনাইয়ের একটি এলাকায় অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে সেনা সদস্যরা।


প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, এসব সন্ত্রাসী হামলা দেশ ও সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস নির্মূল অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্পকে নস্যাৎ করতে পারবে না। ওয়াশিংটন মিশরীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে সিনাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।


মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেছেন, কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলায় মিশরের শক্তিশালী অংশীদার ছিল এবং এখনও আছে।


মিশরের সিনাই উপদ্বীপে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলা-পাল্টা হামলা চলমান রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রয়াত ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তারা হামলা বাড়িয়ে দেয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ উত্তর সিনাইকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করে।


সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযান শুরুর পর থেকে এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন অস্ত্রধারী এবং কয়েক ডজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত নভেম্বরে মিশর আইএস যোদ্ধাদের দমন করতে সীমান্ত শহর রাফাহ ঘিরে সৈন্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলের সাথে সম্মত হয়েছিল।


গত আগস্টে সেনাবাহিনী জানায়, একটি অভিযানে ১৩ আইএস সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং নয়জন সরকারি সৈন্য সিনাইতে সংঘর্ষের সময় আহত হয়। তবে কখন লড়াই হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি ওই সময়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবেশী ইসরাইল এবং জর্ডানে মিশরীয় তেল ও গ্যাস বহনকারী পাইপলাইন বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

No 1 বাংলা নিউজপেপার