বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়ার পরও তিন যাত্রীকে জরিমানা করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশেই বরখাস্তের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে এবার টিটিই’র বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন রেলমন্ত্রী।
![]() |
| নুরুল ইসলাম সুজন |
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর প্রথমে টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা যাত্রীদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। পরে স্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হলে আজ রোববার (৮ মে) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী যা করেছেন, তার সঙ্গে আমার ইনভলবমেন্ট নেই, তারপরও পুরো ঘটনায় আমি বিব্রত।
রেলমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৯ মাস আগে আমি বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী ঢাকাতেই থাকেন। তার মামাবাড়ি ও নানাবাড়ি হলো পাবনা। যে তিন যাত্রীর কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার স্ত্রীর আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা আমার জানা ছিল না। তাছাড়া আমার স্ত্রীর ফোনে টিটিই’র বরখাস্তের আদেশের কথাও আমি জানতাম না। পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলের এই তিন যাত্রীকে জরিমানা করার ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বরখাস্ত করা হয় টিটিইকে। তিন যাত্রীর অভিযোগ, রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করেছেন টিটিই মো. শফিকুল ইসলাম।
ঘটনা সম্পর্কে টিটিই মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অল্পবয়সী ওই তিন ট্রেনযাত্রী টিকিট ছাড়াই এসি কেবিনে উঠে বসেন। টিকিট চাইলে তারা নিজেকে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন। এরপর যথাযথ সম্মান দেখিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিই এবং সুলভ শ্রেণির সাধারণ চেয়ারের যাত্রী বানিয়ে দিই। তদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’


0 coment rios:
No 1 বাংলা নিউজপেপার