Monday, May 9, 2022

নীরব ঘাতক রিয়ালের কামাভিঙ্গা

 কখনো করিম বেনজেমা, কখনো ভিনিচিয়াস জুনিয়র কিংবা রদ্রিগো সিলভা। এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচগুলোতে এই ত্রয়ীর কেউ না কেউ ত্রাণকর্তারূপে হাজির হয়েছেন। গোল করে ফিরিয়েছেন দলকে; বাঁচিয়ে রেখেছেন ১৪তম রুপালি ট্রফির স্বপ্নটা। কিন্তু এই ত্রিফলার বাইরে আরো একজন আছেন। যিনি কাজ করে গেছেন নীরবে; নেপথ্য নায়ক হিসেবে।

নীরব ঘাতক রিয়ালের কামাভিঙ্গা

তিনি এদোয়ার্দো কামাভিঙ্গা। এই মৌসুমেই তাঁকে ফরাসি ক্লাব রেঁনে থেকে উড়িয়ে এনেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন ঠিকানায় ফরাসি মিডফিল্ডারের মৌসুমটা কাটছে স্বপ্নের মতোই। হয়তো পুরো দেড় ঘণ্টা খেলার সুযোগ সবসময় মিলছে না। কিন্তু কামাভিঙ্গা যতটুকু সময় মাঠে থাকছেন ওইটুকুতেই রাখছেন কার্যকর ভূমিকা। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে রিয়ালের নক আউট পর্বের তিন রাউন্ড। বিশেষ করে দ্বিতীয় লেগে।


শেষ ষোলোতে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), কোয়ার্টার ফাইনালে চেলসি এবং সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তিন রাউন্ডেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তিনটি রাউন্ডের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে বেঞ্চ ছেড়ে উঠে এসেছেন কামাভিঙ্গা। তিন ম্যাচে ফরাসি সেনসেশন যে ১২৫ মিনিট খেলেছেন তা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মহামূল্যবান।


কামাভিঙ্গার উপস্থিতিতে নক আউট পর্বের দ্বিতীয় লেগের তিন ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ গোল করেছে আটটি। বিস্ময়কর হচ্ছে, ১৯ বছর বয়সী তারকা মাঠে নামার আগ পর্যন্ত ওই ম্যাচগুলোতে কোনো গোলই করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ! পিএসজির বিপক্ষে ফিরতি লেগের ম্যাচে কামাভিঙ্গা মাঠে নেমেছেন ৫৭ মিনিটে। এর চার মিনিট পর করিম বেনজেমা করেছেন প্রথম গোল। পরে আরো দুটি গোল করেছেন ফরাসি স্ট্রাইকার।


চেলসির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের ছবিটাও প্রায় একই। কামাভিঙ্গা বেঞ্চ ছেড়ে উঠে আসার তিন মিনিটের ব্যবধানে গোল করেছেন রদ্রিগো। ম্যাচের বয়স তখন ৮০ মিনিট। ব্রাজিলিয়ান ফরওয়ার্ডের এই গোলেই প্রায় মাটি হয়ে গেছে চেলসির স্বপ্নের প্রত্যাবর্তনটা। রদ্রিগোর গোলের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রিয়ালকে। সবশেষ সিটি ম্যাচেও কামাভিঙ্গা মাঠে নামার আগ পর্যন্ত ধুঁকতে হয়েছে রিয়ালকে।


ফরাসি তরুণ তুর্কির উপস্থিতিই পাল্টে দেয় ম্যাচের মোড়। ৮৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা রিয়ালের স্বপ্ন বাঁচান রদ্রিগো। দেড় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরওয়ার্ড। দুই লেগ মিলিয়ে ফল দাঁড়ায় ৫-৫। পরে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে চার বছর পর রিয়াল মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলেন বেনজেমা। গোল না করেও দলের এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক কামাভিঙ্গা।


তার পারফরম্যান্সে ভীষণ খুশি রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফাইনালে ওঠার পর এক ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'কামাভিঙ্গা দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়। ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওর লড়াই করার যে মানসিকতা আমি তাতে মুদ্ধ। এ ধরনের একজন খেলোয়াড় একটা দলকে নির্ভার রাখতে পারে। ওর মতো খেলোয়াড় খুব কমই দেখা যায়। গতি আর কৌশলে ও অনন্য।'


আগামী ২৮ মে প্যারিসে স্বপ্নের ফাইনাল। যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য অপেক্ষা করছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। ২০১৮ সালে কিয়েভে সালাহ-মানেদের কাঁদিয়ে ১৩তম শিরোপা জিতেছিল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। এবার প্যারিসে কিয়েভের পুনরাবৃত্তি করার স্বপ্ন দেখছে রিয়াল। আর লিভারপুলের চোখে ভাসছে প্রতিশোধের ভয়ঙ্কর নেশা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কামাভিঙ্গা জাদু কতটা কাজে আসে কার্যত সেটাই দেখার অপেক্ষা।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

No 1 বাংলা নিউজপেপার