সোমবার দুপুরে কারফিউ জারির পরও শ্রীলঙ্কায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী কলম্বোতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে সকালে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বাসভবনের সামনে পার্ক করা চারটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে সেগুলো পার্শ্ববর্তী বেইর লেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেইর লেকের পানিতে ডুবতে থাকা প্রায় অর্ধশত মানুষকে তীর থেকে ঢিল ছুঁড়ছে একদল বিক্ষোভকারী।
শ্রীলঙ্কার সাংবাদিক কালানি কুমারাসিংহে জানান, সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায় একদল লোক। পুলিশ উপর্যুপরি দুইবার টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েও রাত ৯টা পর্যন্ত তাদের সেখান থেকে হটাতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সীমানা প্রাচীরের বাইরে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করছিল একদল তরুন। তারা সংবাদকর্মীদের কোনো ছবি তুলতে ও ভিডিও ধারণ করতে দেয়নি।
সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের দল এসএলপিপির কর্মীদের বাসভবন ও অবস্থান লক্ষ্য করে বিভিন্নস্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসএলপিপির আহত সমর্থকদের নিয়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতালে গেলে বিক্ষুদ্ধ জনতার বাধার কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
মহিন্দা রাজাপাকসের মন্ত্রিসভার শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পাথিরানা, প্রতিমন্ত্রী নিমাল লানজা, এসএলপিপির এমপি সানাথ নিশানথার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। কলম্বোর মাউন্ট লেভিনিয়ায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারদলীয় হুইপ জনস্টন ফার্নান্দোর বাসভবনে হামলা করেছে একদল বিক্ষোভকারী। তার মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। করুনাগালা শহরে তার রাজনৈতিক কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনস্টন ফার্নান্দোর ঘোর সমর্থক ও করুনাগালা শহরের মেয়র তুষারা সঞ্জীবার বাসভবনে আগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মোরাতুয়া শহরের এসএলপিপি দলীয় মেয়র সামান লাল ফার্নান্দোর বাসভবনও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার পশ্চিম উপকূলের শহর নিগম্বতে বিলাসবহুল আভেনরা গার্ডেন হোটেল অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নিগম্ব শহরে এসএলপিপির এমপি নিমাল লানজার বাসভবনও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলম্বো ফোর্ট এলাকায় একদল বিক্ষোভকারী বিলাসবহুল কিংসবারি হোটেলে হামলার চেষ্টা চালাতে গিয়ে পুলিশের বাধা পেলে তারা পুলিশকে পাল্টা ধাওয়া করে।
কলম্বো-ক্যান্ডি মহাসড়কের পাশের শহর নিত্তামবুয়ায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন দল এসএলপিপির এমপি আমারাকীর্থি আথিকোরালার গাড়ির পথরোধ করলে তিনি গুলি ছোঁড়েন। বিক্ষুদ্ধ জনতার ধাওয়া খেয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে আশ্রয় নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনজন আহত হয়। এদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ স্থানীয় ওয়াথুপিতিওয়ালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
কলম্বো, করুনাগেলে, মোরাতুয়া, রাম্বুক্কানা, ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন শহরে এসএলপিপির অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গালে ফেসে সরকার সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫৪ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হাম্বানটোটায় প্রেসিডেন্ট গোতাবি রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপাকসের বাবা, সিলনের সাবেক বিধায়ক ডন আলউইন রাজাপাকসের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে একদল বিক্ষোভকারী।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবি রাজাপাকসে সহিংসতা পরিহার করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ সংকট নিরসন করতে পারব।
শ্রীলঙ্কা বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সালিয়া পেইরিজ সবার প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সোমবার সকালে সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বার এসোসিয়েশন আইনি পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় তামিল এমপি আব্রাহাম সুনমনথিরান সহিংসতায় জড়িতদের রাজধানীতে আনার অপরাধে মাহিন্দা রাজাপাকসাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

0 coment rios:
No 1 বাংলা নিউজপেপার